Friday, September 2, 2016

হাসি ফোটাবে হাঁসের খামার

আমাদের দেশের আবহাওয়া হাঁস পালনে খুবই উপযোগী। সমস্যা হচ্ছে হাঁসের মাংস ও ডিম মুরগির মাংসের চেয়ে জনপ্রিয় কম। তবে বর্তমানে এটি অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এখন হাঁস চাষ লাভজনক একটি প্রযুক্তি। অনেকেই
বাণিজ্যিকভাবে হাঁস চাষে এগিয়ে আসছেন এবং প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন হাঁস চাষ। মৎস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে, পুকুরে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করলে খুব সহজে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। হাঁস চাষে অনেক সুবিধা রয়েছে যেমন- মাছের জন্য পুকুরে তেমন বাড়তি সার ও খাদ্য দিতে হয় না । হাঁস থাকলে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
হাঁস পালনে সুবিধা: 
হাঁসের রোগবালাই তুলনামুলক খুবই কম। তাছাড়া খাবারের তেমন অভাব হয় না। উন্নত জাতের হাঁস বছরে ২৫০-৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে।
যেভাবে শুরু করতে পারেন: 
প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে চাইলে আপনার ৪০-৫০ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুর লাগবে। ১০০-২০০টি হাঁস এবং হাঁসের ঘর তৈরি করে নিতে হবে। এসব পরিকল্পিতভাবে করলে ভালো হবে।
উন্নত হাঁসের জাত: 
হাঁসের জাত নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যে জাতের হাঁস বেশি ডিম দেয় সে জাতের হাঁস নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে সিলেট নাগেশ্বরী (নাগিনী) ও মিটি, খাকি ক্যাম্পেবেল, ইন্ডিয়ান রানার জাত নির্বাচন করা যেতে পারে। এ জাতের হাঁস ৫ মাস বয়স থেকে টানা তিন বছর প্রায় নিয়মিত ডিম দেয়। নাগিনী ও খাঁকি ক্যাম্পবেল হাঁস বছরে ২৮০-৩০০ ডিম 
পালন পদ্ধতি
হাঁস পালনে তেমন শ্রম দিতে হয় না। বাইরে ছেড়ে দিলে নিজেরাই খাবার সংগ্রহ করতে পারে। অতিরিক্ত খাদ্য চাহিদা মেটাতে চালের কুঁড়ার সঙ্গে ডি, ই, বি-১, বি-২, বি-৬, বি-১২ ভিটামিন দেওয়া যেতে পারে। হাঁস সাধারণত পাঁচ মাস বয়সে ডিম দেওয়া শুরু করে। পূর্ণ মাত্রায় ডিম দেয় তিন বছর বয়স পর্যন্ত। এরপর হাঁসগুলোকে বাজারে বিক্রি করে দিতে পারেন, যার মাংস খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
যেভাবে হাঁস পালন করবেন: 
হাঁস বিভিন্ন পদ্ধতিতে পালন করা যায়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মুক্ত জলাশয়ে হাঁস পালন। এ পদ্ধতিতে ২৫-১০০টি হাঁস মুক্ত পুকুরে, লেকে অথবা ধান কাটার পর পরিত্যক্ত জমিতে পালন করা যায়। অপরটি হচ্ছে ইনটেনসিভ হাঁস পালন। এ পদ্ধতিতে ১-১০ লাখ হাঁস পালন করা সম্ভব। দিনের বেলায় হাঁস পানিতে থাকতে পছন্দ করে। শুধু রাতযাপনের জন্য ঘরের প্রয়োজন।
হাঁসের ঘর তৈরি:
পুকুরপাড়ে কিংবা পুকুরের ওপর ঘরটি তৈরি করতে হবে। ঘরের উচ্চতা ৫-৬ ফুট হলে ভালো হয়। ঘর তৈরিতে বাঁশ, বেত, টিন, ছন, খড় ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ইট দিয়ে মজবুত করে ঘর তৈরি করতে পারলে ভালো হবে। ঘরটি খোলামেলা হতে হবে এবং সাপ ও ইঁদুর থেকে মুক্ত রাখতে হবে। শহরে বিভিন্ন মাপের চৌবাচ্চায় হাঁস পালন করা হচ্ছে । এক্ষেত্রে প্রশস্ত ছাদ থাকলে সুবিধা বেশি। ছাদের একপাশে ঘর অপর পাশে চৌবাচ্চা নির্মাণ করতে হবে। প্রজননের জন্য আটটি হাঁসের সঙ্গে একটি পুরুষ হাঁস রাখা দরকার। এরপর দেশি মুরগির সাহায্যে অথবা ইনকিউবেটরে হাঁসের ডিম ফোটানো যায়। 
কোথায় পাবেন হাঁসের বাচ্চা:
দৌলতপুর হাঁস খামার, নারায়ণগঞ্জ হাস প্রজনন কেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত হাঁস-মুরগির খামার ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাঁস বা হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করতে পারেন।
হাঁসের খাদ্য:
হাঁস চাষে সুবিধা হলো হাঁস খাল-বিল-পুকুর থেকে তার কিছু খাবার সংগ্রহ করে নেয়। তাছাড়া বাজারে হাঁসের তৈরি খাবার কিনতে পাওয়া যায়। শুকনো খাদ্য না দিয়ে হাঁসকে সবসময় ভেজা খাদ্য দেয়া উচিত। খাদ্যে আমিষের পরিমাণ ডিম দেয়া হাঁসের ক্ষেত্রে ১৭-১৮ শতাংশ ও বাচ্চা হাঁসের ক্ষেত্রে ২১ শতাংশ রাখা উচিত। হাঁস দানা, খইল, ভূষি, ঝিনুকের গুঁড়ো, ডিমের খোসা, কেঁচোসহ অন্যান্য খাবার বেশি পছন্দ করে।  
মাছের পুকুরেও হাঁস পালন:
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাছের পুকুরে হাঁস পালন করলে কৃষকরা বেশি লাভবান হন। এ চাষে হাঁস বেশি প্রোটিন পায়। মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়
হাঁসের খাবার
খাঁকি ক্যাম্পবেল হাঁস পুকুর/জলাশয়ে ছেড়ে পুষলে খাবারের অনেক সাশ্রয় হয়। কারণ হাঁস তখন জলজ উদ্ভিদ কীট- পতঙ্গ, মাছের ডিমপোনা, গুগলি, শামুক, গেড়ি খেয়ে বেড়ায়। কিন্তু ঘেরার মাঝে হাঁস পালন করলে তখন তাকে পুরো খাবারই খাওয়াতে হবে। পুরো ৮ সপ্তাহের জন্য হাঁস পিছু লাগবে ৪/৫ কেজি সুষম খাদ্য এবং ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত সেটা দাঁড়বে সাড়ে বরো কেজি।
পুর্ণবয়ষ্ক হাঁস হড়ে দিনে ১৩০ থেকে ১৫০ গ্রাম সুষম খাদ্য খায়। খাঁকি ক্যাম্পবেল হাঁসকে সর্বদা সুষম খাদ্য ভিজিয়ে খাওয়াতে হবে। এই ব্যবস্থায় খাবারের অপচয় কম হয় এবং হাঁস চট করে গিলে নেয়।
খাঁকি ক্যাম্পবেল হাঁসের দৈনিক খাবার দেওয়ার হার নিচে দেয়া হলো:
০-৪ সপ্তাহ - দৈনিক ৪ বার।৪-৮ সপ্তাহ - দৈনিক ৩ বার।৮ সপ্তাহের উপর - দৈনিক ২ বার।
থাকার জায়গার পরিমাণ:
০-২ সপ্তাহ আধা ইঞ্চি বাচ্চা প্রতি।২-৪ সপ্তাহ ১ ইঞ্চির ৪ ভাগের ৩ ভাগ বাচ্চা প্রতি। ৪-৭ সপ্তাহ দেড় ইঞ্চি বাচ্চা প্রতি।
হাঁসের সুষম খাবারের তালিকা:
ঠিক সময়ে ডিম পাওয়ার জন্য ক্যাম্পবেল হাঁসের সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। খামারকারী নিজেও এই সুষম খাদ্য নিজে তৈরি করে নিতে পারে। এতে দামে যেমন সস্তা হয়, এবং নিজেও প্রচন্ড বল পেতে পারেন যে তিনি তাঁর হাঁসকে ভাল খাবার খাইয়াছেন।
সুষম খাদ্য তৈরির নিয়ম নিচে দেয়া হলো-
প্রতি ১০০ ভাগ খাবারের মধ্যে-গম - ৩০ ভাগ;ধান ভাঙ্গা - ৪০ ভাগ;কালো তিল খোল - ১০ ভাগ;সয়াবিন খোল - ১০ ভাগ;শুঁটকি মাছের গুঁড়ো - ৮ ভাগ;ঝিনুক ভাঙ্গা - ২ ভাগ।
ভিটামিন এ, বি২, ডি৩, ই, কে প্রতি ১০০ কেজি খাবারের ১০ গ্রাম মেশাতে হবে এবং প্রতি কু্যইন্টাল হিসেবে কোলিন ক্লোরাইড দিতে হবে ৫০ গ্রাম। হাঁস ৬ -৮ সপ্তাহ হলে গমের পরিমান কমিয়ে ছত্রাক মুক্ত মেশানো যেতে পারে। কোলিন ক্লোরাইড যেমন দিতে হবে বৃদ্ধির জন্য তেমনি ককসিডিয়া রোড় বন্ধ করার জন্য দিতে হবে ককসিডিওস্ট্যাট।
ককসিডিওস্ট্যাট দিতে হবে হাঁসের ১২ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত। মেশাবার হার প্রতি ১০০ কেজি খাবারের জন্য ৫০ গ্রাম। হাঁসকে গুগলি দিলে শুঁটকি মাছের পারিমান কমিয়ে দিতে হবে। এতে খাবারের দাম ও কমে যাবে।
প্রশিক্ষণ:
বাংলাদেশ সরকারের কেন্দ্রীয় হাঁস প্রজননকেন্দ্র আছে নারায়ণগঞ্জে। এখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। আরো প্রজননকেন্দ্র আছে খুলনার দৌলতপুর, নওগাঁ, ফেনীর সোনাগাজী, কিশোরগঞ্জ ও রাঙামাটিতে। প্রশিক্ষণ নিতে পারেন আপনার কাছাকাছি কেন্দ্র থেকে। এসব কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করতে পারেন প্রয়োজনীয় হাঁসের বাচ্চা। হাঁসের খাবার ও ওষুধপত্র কিনতে পাওয়া যাবে প্রায় প্রতিটি বিভাগীয় শহরেই। ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় আছে পাখির খাদ্যের বৃহৎ বাজার। চালের মিল থেকে তুষ ও কুঁড়া সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া পশুখাদ্য দোকানে তুষ ও কুঁড়া
রোগব্যাধি:
হাঁসের প্রধান রোগ কলেরা ও প্লেগ। হাঁসকে এসব রোগ থেকে রক্ষা করতে কিছু নিয়ম পালন করতে হয়। ধানের তুষ দিয়ে বানানো হাঁসের বিছানায় প্রতিদিন ব্লিচিং পাউডার এবং ভিরকন-এস প্রয়োগ করতে হবে।

ভয় পেলে হাঁসের ডিম পাড়ায় বিঘ্ন ঘটে। তাই সব সময় খেয়াল রাখতে হবে, হাঁসগুলো যেন কোনোভাবেই ভয় না পায়। এক দিন থেকে দুই মাস বয়সের মধ্যে দুবার প্লেগ ও কলেরার টিকা দিতে হবে। এরপর প্রতি ছয় মাস পর পর টিকা দিতে হবে। সরকারি দপ্তর থেকে টিকার ভ্যাকসিন কেনাই ভালো। ভ্যাকসিন কেনার সময় দেখে নিতে হবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না। সঠিকভাবে পরিবহন না করলে ভ্যাকসিনের গুণাগুণ নষ্ট হতে পারে।

Monday, August 22, 2016

লেবু চাষ করে টোকাই থেকে কোটিপতি


টাঙ্গাইলের সখীপুরে লেবু বাগান করে অভাবনীয় সাফল্যের নজির গড়েছেন মোছলেম উদ্দিন। সাড়ে ছয় একর জমিতে লেবু বাগান করে প্রতি মাসে তিনি আয় করছেন প্রায় তিন লাখ টাকা।

মোছলেম উদ্দিন এক সময় অন্যের বাড়িতে দিন মজুর হিসেবে কাজ করেছেন। টোকাই ছিলেন অনেকদিন। বাড়ি বাড়ি ফেরি করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেও জীবিকা নির্বাহ করেছেন কিছুদিন। তার বাড়িতে ছিল ৬টি লেবু গাছ। মাসে প্রায় ৫০০ টাকার লেবু বিক্রি করতেন।


তারপর একদিন সাহস করে সখীপুরের গজারিয়া গ্রামে সাড়ে ছয় একর জমি এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ বছরের জন্য লিজ নেন। সেখানে গড়ে তোলেন লেবু বাগান। তারপর লেবুই তাকে পৌছে দেয় সাফল্যের দরজায়। মোছলেম উদ্দিন বলেন, ৬টি গাছ থেকে আমি শুরু করেছি। এখন আমার বাগান বড় হয়েছে। অন্যের জমি লিজ নিয়ে শুরু করলেও এখন আমার মাসিক আয় তিন লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। মোছলেমের এ সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এলাকার অনেক চাষীই। তারা বলেন, তার দেখাদেখি আমরা লেবু চাষের দিকে ঝুঁকছি। তার সাফল্যকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফায়জুল ইসলাম ভূইয়া ও টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ আবুল হাশিম জানান,তার দেখাদেখি এখানকার অন্য কৃষকরা লেবু চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আমরাও চেষ্টা করছি কৃষকদের মধ্যে লেবুচাষ ছড়িয়ে দিতে।

-------------চ্যানেল আই ১ ডিসেম্বর, ২০১৫


বাড়ির ছাদেও হতে পারে লেবু চাষ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আব্দুল বাছিত ২০১১ সালে ৭ শতক জমিতে কাগজিলেবুর বাগান গড়ে তোলেন। লেবু বাগানে মাত্র ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় করে এক বছরে প্রায় দেড় লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেন। প্রথমবার লেবু চাষে লাভের মুখ দেখায় তিনি আরো উৎসাহী হন। গত বছর প্রায় ৭০ শতক জায়গার মধ্যে ২টি লেবু বাগান গড়ে তোলেন। বাগানের প্রতিটি লেবুগাছে ৬০-৮০টি লেবু ধরেছে। তিনজন শ্রমিক গাছের গোড়ায় পানি দেওয়ার পাশাপাশি গাছগুলো পরিচর্যা করছেন। চাষি আব্দুল বাছিত নিজেও কাজ করেন বাগানে। তিনি জানান, লেবু চাষ করে ভাগ্য ফেরানো সম্ভব। এর জন্য উদ্যমী ও পরিশ্রমী হতে হবে। বাড়ির ছাদেও লেবু চাষ করতে পারেন। তবে লেবুগাছের চারা কেনার সময় কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে নিতে পারেন। বাড়ির ছাদে টবে লেবু চাষ করে বাজারে বিক্রি করে ভালো টাকা আয় করা সম্ভব।

===== বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ ===

বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ করতে হলে খুব বেশি মূলধনের প্রয়োজন নেই। তবে নিজের আবাদি জমি থাকলে ভালো। উঠোন কিংবা পরিত্যক্ত জমিতেও শুরু করা যায়। বড় পরিসরে শুরু করতে চাইলে নিজের জমি না থাকলে জমি লিজ নিতে পারেন। সারা দেশের মাটিই চাষাবাদের উপযোগী।
লেবুর জাত
উচ্চ ফলনশীল জাত বারি লেবু ১ ও বারি লেবু ২। পরিচর্যা পেলে বারি লেবু ১ বছরে দুবার ফলন দিলেও বারি লেবু ২ সারা বছর ফলন দেয়। পূর্ণবয়স্ক গাছ ১৫০টি পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে।
বারি লেবু ৩ জাতের লেবুর রসের পরিমাণ বেশি। বছরে দুবার ফল পাওয়া যায়।
চাষাবাদ
গুটি কলম ও কাটিং তৈরি করে ২.৫ মিটার দূরে দূরে রোপণ করতে হয়। মধ্য বৈশাখ থেকে মধ্য আশ্বিন চারা রোপণের জন্য উপযুক্ত। প্রতি গাছে টিএসপি সার ৪০০ গ্রাম, এমপি সার ৪০০ গ্রাম, ইউরিয়া ৫০০ গ্রাম ও গোবর ১৫ কেজি প্রয়োগ করতে হয়। বছরে তিনবার সার দিতে হয়। প্রতিবছর মধ্য ভাদ্র থেকে মধ্য কার্তিক পর্যন্ত গাছের অবাঞ্ছিত শাখা ছাঁটাই করতে হয়। খরা মৌসুমে ২-৩ বার সেচ দেওয়া দরকার। পানি যাতে না জমে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
খরচ ও লাভের হিসাব
পাবনার ঘিওরের লেবু চাষি মজিবুর রহমান ১৬-১৭ বছর ধরে লেবু চাষ করেন। এক বিঘা জমিতে কলম্ব জাতের লেবু চাষে তার খরচ পড়ে প্রায় এক লাখ টাকা। আর বছরে লেবু বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকার। একই গাছ থেকে ১০-১২ বছর লেবু বিক্রি করতে পারেন তিনি। প্রতিবছর বাগান পরিচর্যায় খরচ হয় ১৪-১৫ হাজার টাকা। চাষিরা জানান, চারা বপনের দুই বছর পর লেবু ধরতে শুরু করে। প্রথম দুই বছরেই খরচ উঠে যায়।


ঔষধি গাছের চাষ করে ভাগ্য বদল


নাটোর শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের গ্রাম খোলাবাড়িয়া। গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে সবুজের সমারোহ। রাস্তার দুই পাশের জমিতে শুধু গাছ আর গাছ। তবে যেন-তেন গাছ নয়। অনেক জটিল রোগ সারানোর ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় এ সব গাছ। গাছের পরিচয়েই খোলাবাড়িয়ার গ্রামটিকে ডাকা হয় ‘ঔষধি গ্রাম’ নামে।



খোলাবাড়ীয়া থেকে হয়ে কাঠালবাড়িয়া পর্যন্ত রাস্তার দুধারে দেখা যায় নানা ধরনের ঔষধি গাছের সমারোহ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘৃত কমল, স্বর্ণ লতা, পাথরকুচি, উলট কম্বল,ঘৃত কৃমারী, শতমুল, মিছরীদানা, তুলশী, থানকুচি, জার্মানীলতা, হরীতকী, বহেরা, আমলকি, চিরতা, তালমাখনা, তেলাকুচি বাসক, তাল মাখনা অশ্বগন্ধা, শিমুল মূল, লজ্জাবতী সাদা লাল, হস্তিগন্ধা, তেজবল, দুধরাজ, নাগেশ্বর,আমরুল, ঘোড়া চান্ডাল, কাল ধুতরা, ঘিয়া বাবলা, লতা কস্তরী, আলকুচি অপরিচিতা, ভুই কুমরাসহ নান প্রজাতির গাছ।

ঔষধি গাছের ওপর খোলাবাড়ীয়া, খামারপাড়া, আমির গঞ্জ, হিসুলী, কাঠালবাড়ীয়া, এতিম মোড়, চৌরী, দক্ষিণপুর, মোল্লার মোড়, বড়বড়িয়া, ইব্রাহীমপুর গ্রামের প্রায় ৮০০ জন চাষি নির্ভরশীল। তারা নানা প্রজাতির ঔষধি গাছের চাষ করে আসছেন প্রায় দুদশক থেকে। 

সিলেট কুমিল্লা ঢাকা চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানথেকে কিছু কিছু লোকজন এসে ঔষধি গাছ কিনে নিয়ে যান। তবে সেটার পরিমাণ বেশি নয়। একারণে স্থানীয় কিছু দরিদ্র লোকজন এ সমস্ত ঔষধি গাছগুলো নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফেরি করে বিক্রি করেন। যদি বড় কোন কোম্পানি এখান থেকে ভেষজ গাছগুলো সংগ্রহ করতেন তা হলে চাষিরা উপকৃত হতে পারতেন।


স্থানীয়ভাবে আমিরগঞ্জ বাজারে ঔষধি গাছ প্রক্রিয়া জাত করে বিক্রি করা শুরু হয়েছে। এখানে গড়ে উঠেছে ৮/১০টি দোকান। সমস্ত দোকানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ঔষধি গাছ থেকে গুড়া বা ডাস্ট তৈরি ও প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা শুরু করেছেন। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঔষধি গুন সম্পন্ন পণ্যগুলো পাঠানো সহজ হচ্ছে। চাষিরা ও লাভের মুখ দেখতে পারছেন।


ঔষধি গ্রামটিকে পরিচিত করে তোলার নেপথ্যে রয়েছেন আফাজ উদ্দিন। তিনি স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে আফাজ পাগলা নামে পরিচিত।

লক্ষীপুর খোলাবাড়ীয়া ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান বাতেন ভুইয়া জানান, ঔষধি গাছের ওপর নির্ভর করেই অনেকে হয়েছেন স্বাবলম্বী, পাল্টে ফেলেছেন জীবনযাত্রা। উদ্যোগটি লাভজনক হওয়ায় পার্শবর্তী গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে ঔষধি গাছের চাষ।

স্থানীয় লোকজন জানান, প্রায় ৪০ বছর আগের কথা। খামখেয়ালি প্রকৃতির আফাজ উদ্দিন তার নানির কাছ থেকে ঔষধি গাছের গুণাগুণ জানতে পারেন। এরপর নানা ধরনের ঔষধি গাছের চাষ এবং কবিরাজি চিকিৎসা শুরু করেন। শুধু নিজেই চাষ করে থেমে থাকেননি। অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করেন ঔষধি গাছ লাগাতে। প্রথমে তার কথায় কেউ গুরুত্ব না দিলেও ধীরে ধীরে সবাই বুঝতে পারে এটি খুবই লাভজনক উদ্যোগ। ওই গ্রামের ভেষজ বিক্রেতারা জানান, বহু বছর ধরে আফাজ পাগলার পরামর্শে তারা ঔষধি গাছের চাষ শুরু করেছেন। এতে তারা অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন।


Wednesday, August 17, 2016

আদা চাষ খুব লাভজনক

সাধারণত প্রতি একর জমিতে ১২-১৩ মেট্রিক টন আদা উৎপন্ন হয়। প্রতি টন আদার বর্তমান পাইকারি বাজার মূল্য ২৫-৩৫ হাজার টাকা। একর প্রতি জমিতে আবাদ খরচ পড়ে (বাজারজাত খরচসহ) 2৭৫-2৯০ হাজার টাকা। আদা চাষে আবাদ খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা বেশি লাভবান হয়।
আম, লিচু, কলা, সুপারি, নারকেল, পেয়ারা, পেঁপে বাগানে ফাঁকা জমি পড়েই থাকে। সেই জমি ফেলে না রেখে সেখানে আদা-সহ বিভিন্ন মশলা চাষ করা যেতে পারে। বিশেষ করে আদা চাষ খুব লাভজনক। বাগানের ফাঁকা জায়গায় খুব সহজেই এই চাষ করা যায়। ভাল মানের আদার বিদেশেও চাহিদা রয়েছে। খাবারের পাশাপাশি ওষুধের ক্ষেত্রেও এর যথেষ্ট মূল্য রয়েছে।

ভাল জাতের চারা রোপণ করাটা সবচেয়ে জরুরি। চাষের পরিকল্পনা আগের থেকে করতে হবে। না হলে অনেক সময় ভাল চারা বা বীজ সংগ্রহ করা সমস্যা হয়। সেই সময় হাতের কাছে যা পান, তাই লাগিয়ে
দেন চাষিরা। এমনটা করা ঠিক নয়। সেগুলো ঠিক মতো পরিচর্চা করতে হবে। ইচ্ছে থাকলে সবই
বাগানের ফাঁকা জমিতে আদার চাষ করলে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন। পাশাপাশি কিছু-কিছু চাষ আছে, যা করতে পারলে মাটির উপকার হবে।

পুষ্টিমূল্যঃ আদায় ক্যালসিয়াম প্রচুর ক্যারোটিন থাকে
ভেষজ গুণঃ পেট ফাঁপা ফোলা এবং সর্দি-কাশিতে আদা ব্যবহৃত হয়
ব্যবহারঃ মসলা হিসেবে আদা জনপ্রিয়
উপযুক্ত জমি মাটিঃ পানি নিকাশের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু বেলে-দো-আঁশ বেলে মাটি আদা চাষের জন্য উপযোগী

জাত পরিচিতিঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে উদ্ভাবিত উন্নত জাত বারি আদা-
বারি আদা-: প্রতিটি গোছায় রাইজোমের ওজন ৪০০-৪৫০ গ্রাম। প্রচলিত জাতগুলোর তুলনায় এর ফলন বেশি। স্থানীয় হাতের মতো বারি আদা- সহজে সংরক্ষণ করা যায়
তবে স্থানীয় জাত যেমনঃ রংপুরী, খুলনা, টেংগুরা ইত্যাদি জাতেরও চাষ করা হয়

চারা তৈরিঃ
বীজ লাগানোঃ ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত লাগানো যায়। সাধারণতঃ ১২-১৫ গ্রাম ওজনের -২টি কুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ লাগানো হয়। ৪০-৪৫ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে ২০ সে.মি. দূরে সে.মি. গভীরে আদা লাগানো হয়। কন্দ লাগানো পর ভেলী করে দিতে হয়। প্রতি হেক্টরে ১০০০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়
সার ব্যবস্থাপনাঃ আদার ভাল ফলন পেতে হলে জমির উর্বরতার উপর নির্ভর করে প্রতি হেক্টরে গোবর সার - টন, ইউরিয়া ২০০-২৪০ কেজি, টিএসপি ১৭০-১৯০ কেজি, এমওপি ১৬০-১৮০ কেজি প্রয়োগ করতে হয়। জমি প্রস্ততির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি ৮০-৯০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়। কন্দ লাগানোর ৫০ দিন পর ১০০-১২০ কেজি হারে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। লাগানোর ৯০ দিন ১২০ দিন পর যথাক্রমে ২য় ৩য় কিস্তির সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। ভেলা সামান্য কুপিয়ে ১ম কিস্তির সার প্রয়োগ করে আবার ভেলা করে দিতে হয়। ২য় ৩য় কিস্তির উপরি প্রয়োগের সময় প্রতি হেক্টরে প্রতিবারে ৫০-৬০ কেজি ইউরিয়া ৪০-৪৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। ২য় ৩য় কিস্তির সার সারির মাঝে প্রয়োগ করে মাটি কোঁদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে সামান্য পরিমাণ মাটি ভেলীতে দিতে হয়

সেচ আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ আদা লাগানোর পর বৃষ্টি হলে সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে বৃষ্টি না হলে মাটিতে রসের অভাব থাকলে নালাতে সেচ দিতে হবে এবং - ঘন্টা পর নালার অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে। বৃষ্টির পানি যেন জমতে না পারে সেজন্য পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আগাছা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করতে হবে। সার উপরি প্রয়োগের সময় আগাছা পরিষ্কার করে প্রয়োগ করা ভালো

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ
পোকার নামঃ রাইজোম ফ্লাই বা কান্ডের মাছি পোকা
পোকার আক্রমণে হঠাৎ করে গাছ মরে যায়। পোকা আদায় আক্রমণ করে পরে পচন ধরে। আদা উৎপাদন এলাকার সকল জায়গাতে পোকার আক্রমণ দেখা যায় এবং ক্ষতির পরিমান ১০ থেকে ৭০ ভাগ পর্যন্ত হয় বলে বর্ষা মৌসুমে ঘন ঘন ক্ষেত পরিদর্শন করতে হবে ক্ষেতে পোকার আক্রমণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মা পোকা দেখতে গাঢ় বাদামী বর্ণের পাখার উপর কালো ফোটা আছে। কীড়া ধূসর সাদা বর্ণের। বৃষ্টিপাত আদ্র আবহাওয়ায় পোকার আক্রমণ বেশি হয়

ক্ষতির নমুনাঃ আক্রমণে সবুজ পাতা হঠাৎ করে হলুদ রং ধারণ করে। আক্রান্ত পাতা আগা থেকে মরতে শুরু করে। রাইজোমটি ধূসর বর্ণের হয়ে পচন ধরে। অধিক আক্রমণে সমস্ত আদা পচে যায়
জীবন চক্রঃ স্ত্রী পোকা পচা আদায় গুচ্চাকারে ডিম পাড়ে। - দিন পর ডিম থেকে কীড়া বের হয়। কীড়া অবস্থায় ১৬-১৭ দিন থেকে পুত্তলিতে পরিণত হয়। পুত্তলি অবস্থায় ১৪-১৫ দিন থাকার পর পূর্ণাঙ্গ পোকা বেরিয়ে আসে। এদের জীবন চক্র সম্পন্ন করতে ৩৮-৬২ দিন লাগে

ব্যবস্থাপনাঃ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে। বীজ লাগানোর সময় রোগ পোকা মুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। রাইজোম না ভেঙ্গে লাগানো এবং লাগানোর পূর্বে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ (প্রতিলিটারে গ্রাম হারে) শোধন করে লাগাতে হবে। বর্ষাকালে জমিতে যাতে পানি জমতে না পারে তার জন্য পানি নিষ্কাশনের ভাল ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্ত গাছ মাটি সহ তুলে ধ্বংশ করা
 
পোকার নামঃ ডগা ছিদ্রকারী পোকা
কান্ড আক্রমণ করে বলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ফলে উৎপাদন কম হয়। পোকার মথ (মা) কমলা হলুদ রংয়ের এবং পাখার উপর কালো বর্ণের ফোটা থাকে। কীড়া হালকা বাদামী বর্ণের। গায়ে সুক্ষ্ণ শুং থাকে
ক্ষতির নমুনাঃ পোকা কান্ড ছিদ্র করে ভিতরের দিকে খায় বলে পাতা হলুদ হয়ে যায়। অনেক সময় ডেড হার্ট লক্ষণ দেখা যায়। আক্রান্ত কান্ডে ছিদ্র কীড়ার মল দেখা যায়। আদ্র আবহাওয়ায় পোকার আক্রমণ বেশি হয়

ব্যবস্থাপনাঃ আক্রমণ বেশি হলে, সুমিথিয়ন ৫০ ইসি ২০ মিলি হারে প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। ডাইমেক্রন প্রতি লিটার পানিতে . মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পোকার আক্রমন বেশী হলে নুভাক্রন ১০০ ইসি লিটার পানিতে মিলি ওষুধ ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর থেকে বার স্প্রে করতে হবে

রোগের নামঃ রাইজম রট পিথিয়াম এফানিডারমেটাম নামক ছত্রাকের আক্রমণের কারনে রোগ হয়। রোগ রাইজমে আক্রমণ করে বলে আদা বড় হতে পারে না গাছ দ্রুত মরে যায় ফলে সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে

ক্ষতির নমুনাঃ প্রথমে পাতা হলুদ হয়ে যায় কিন্তু পাতায় কোন দাগ থাকে না। পরবর্তীতে গাছ ঢলে পড়ে শুকিয়ে মরে যায়। রাইজম (আদা) পচে যায় ফলন মারাত্মক ভাবে কমে যায়। ভেজা স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়ায় রোগ বেশী দেখা যায়। বর্ষাকাল বা জলাবদ্ধতা থাকলে রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। রোগ বীজ, পানি মাটির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে

ব্যবস্থাপনাঃ আক্রান্ত গাছ রাইজোমসহ সম্পূর্ণরূপে তুলে ধ্বংস করতে হবে। রোপণের পূর্বে প্রতি লিটার পানিতে . গ্রাম রিডোমিল গোল্ড বা গ্রাম ব্যাভিস্টিন মিশ্রিত দ্রবণে বীজকন্দ ৩০ মিনিট ডুবিয়ে ছায়ার নিচে শুকিয়ে রোপণ করতে হবে।  সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। একর প্রতি নিম খৈল ১০০০ কেজি অথবা বাদামের খৈল ৪৪৫ কেজি এর সাথে ইউরিয়া ৩০ কেজি, টিএসপি ২০ কেজি এবং এমপি ৫০ কেজি প্রয়োগের ফলে ফলন বৃদ্ধি পায় এবং কন্দ পচা রোগ রোধ করা যায়। কন্দ পচা রোগ দ্বারা আক্রান্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কপার অক্সিক্লোরাইড ৫০% ডব্লিউপি প্রতি লিটার পানিতে গ্রাম বা রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে গ্রাম মিশিয়ে মাটির সংযোগ স্থলে ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর প্রয়োগ করে রোগ প্রতিরোধ করা যাবে

ফসল সংগ্রহঃ আদা লাগানোর -১০ মাস পর উঠানোর উপযোগী হয়। গাছের প্রায় সব পাতা শুকিয়ে গেলে আদা তোলা হয়। ফলন প্রতি হেক্টরে ১২-১৩ টন

তথ্য: 
তথ্য আপা প্রকল্প